Thursday, August 21, 2025

আত্মজীবন - ০৩

এক ধরণের অস্থিরতা কাজ করতেছে কয়েকদিন ধরে। কি বিষয়ে সেটা নিয়ে আমার ধারণা নাই।  আমার সিক্সথ সেন্স খুব ভালো। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় যাকে বলে। আমার ধারণা অনেক ভালো। আমার আশেপাশের মানুষ কি মনে করে জানি না। আমার সিক্সথ সেন্স বলছে কিছু একটা আমার আশেপাশে ঘটছে যেটা আমার জন্য খুব ভালো খবর না। হয়তো আমি বুঝতে পারছি কি হচ্ছে, হয়তো পারছি না। বাট কি করার? 

আজকে আমার এক কলিগ বলছিলো, দিন শেষে বাসায় যাওয়ার পর কেউ একজন থাকা উচিত যাকে সব কিছু বলা যায়। আমি অনেকক্ষন চুপ করে থাকলাম। আমার বলার কেউ নাই। বলার কেউ নেই থেকে বড় কথা আমি বলতে চাই না। গত কয়েকবছরে আমার একটা ধারণা হয়েছে আমি কারো বিরক্তির কারণ হইতে চাই না। আর এই ভয়ের কারণে হয়তো কাউকে কোনো কিছু বলাও হয় না। কথা জমতে জমতে মানুষ নাকি বোবা হয়ে যায়? হয়ে তো গেছি মনে হয়।

ভাগ্যিস এই সাইটটা ছিলো, এখানে এসে মনের বকবক লিখি। কয়েকজন এখানে নিয়মিত আসে পড়ার জন্য। আমার খুব জানার ইচ্ছা হয় এই কয়েকজন কারা। আপনাদের কি খাইয়া দাইয়া কাজ নাই পাগলের বকবক পড়েন? তাও আবার প্রতিদিন? 

ইদানিং মিনারের "কেউ কথা রাখেনি" গানটা অনেক শোনা হয়। এত সুন্দর গান আমার এতোদিন শোনা হয় নাই। অনেক আগে একজনকে বলেছিলাম "গান আর ভিডিও গেমের কারণেই এতোদিন বেচে থাকতে পারছি" না থাকলে কি করতাম? গান, বই আর ভিডিও গেম এগুলা আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। এতো বছরেও কেউ ছাইড়া যায় নাই। গানের সাথে মিলায় আবার মনে কইরেন না কেউ ছেড়ে গেছে দেখে খুব উদাস হয়ে আছি। এরকম কোনো কাহিনি না। গানটা সুন্দর সেজন্য। 

যাই হোক সামনে আরেকটা ডুব মারার সময় চলে আসছে। 

Monday, August 11, 2025

অনুভুতি বনাম বাস্তবতা

 আজকে অনেকদিন পর আমি যে অনুভুতিলেস মানুষে পরিণত হয়েছি তার আরো একবার প্রমান পেলাম।  আমার এক ক্লোজ ফ্রেন্ডের টেক্সট। 

- তোর সাথে কথা আছে

- কি রিলেটেড

- ঘুমায় যাইস না। একটা কাজ করতেছি। করে ফোন দিচ্ছি।

- বলতো কি রিলেটেড, ঘুমায় যাইতেও পারি। চোখ অফ হয়ে আসতেছে

- ভাই! আমি কাদতেছি

একটু হকচকিয়ে গেলাম। 

- আছি আমি, আয় তুই।

৫-১০ মিনিট পরে বন্ধুর ফোন, ফোন রিসিভ করার পর বাচ্চা মানুষের মতো কাদা শুরু করলো। আমি এইসবে খুব একটা অভ্যস্ত না। এইরকম ভাবে আমি শেষ কাদছিলাম ৭ বছর আগে। যখন আমি আমার জানের চেয়ে প্রিয় মানুষকে হারাই। সো স্বভাবতই ভিতরটা গুমরে উঠলো।

- কি হইছে

ধরা যাক আমার বন্ধুটার নাম নিলয়। 

নিলয় বাচ্চাদের মতো কেদেই চলতেছে।

- আরে বাল, বলবি তো কি হইছে?

- তোর রিয়ার (ছদ্দনাম) কথা মনে আছে?

নামটা পরিচিত,কিন্তু মনে করতে একটু সময় লাগলো।

- এটা কি ওই (একটা) ইউনিভার্সিটির না?

- হ্যা

- কি হইছে?

- ও আমার সাথে চিট করছে, ওর আরেকজনের সাথেও রিলেশন আছে। আমি মাত্র জানতে পারলাম।

কেউ একজন তার মন থেকে কাউকে পছন্দ করলে ওর এতটা খারাপ লাগবেই এই সিচুয়েশনে। লাগাটাই খুব স্বাভাবিক। কিন্তু আমি যে অনুভুতি শুন্য আমার কাছে এই রিজনে এভাবে কান্না করাটা খুবই বেখাপ্পা লাগলো। কোনো।মতে নিজেকে এই কোয়েশ্চন করা থেকে বিরত থাকলাম "যে এটা কোনো কান্না করার রিজন হইলো?" 

মনোযোগ দিয়ে কথাগুলো শুনলাম। আমার বন্ধুর মনটা খুবই নরম। জানালো ৩ বছর ধরে এই মেয়েকে পছন্দ করে, বিদেশ পর্যন্ত যায় নাই ওই মেয়ের জন্যই। আজকে জানতে পারলো ওই মেয়ে আরেকজনের সাথে রিলেশনে ছিলো।

আমার জীবনের গল্পে এগুলোর জন্য কোনো খারাপ লাগা নাই। সুতরাং ওকে স্বান্তনা দেওয়ার জন্য আমি খুবই খারাপ একটা চয়েস। ইমোশনাল মোমেন্টে বাস্তবতা নিয়ে কথা বলা যায় না। কারণ বাস্তবতা বুঝলে মানুষ কখনো ইমোশনাল হয় না। আর ইমোশনাল হলে কেউ বাস্তবতা বুঝতে চায় না। 

আমার জীবনে কিছু রুল আছে যেটা আমি কখনো ভাঙিনা।আমি কাউকে আমার লাইফে থাকার জন্য জোর করি নাই। করি নাই বলতে করি নাই। বুক ফেটে গেলেও বলি নাই। আমার সাইকোলজি এভাবে কাজ করে, "আমি চেষ্টা করবো মানুষকে রাখার, সর্বোচ্চ চেষ্টা। কিন্তু তারপরেও কেউ থাকবে কিনা আমার লাইফে সেটা তার ব্যাপার। আমরা জোর করে কাউকে রাখতে পারি না। যে চলে যাওয়ার সে এমনেই যাবে আর যে থাকার সে এমনেই থাকবে" 

যে জিনিস আমরা করতে পারি সেটা হলো মেনে নেওয়া। কেন হইলো, আমার সাথেই কেনো হইলো এগুলো সারাজীবনের প্রশ্ন।  এগুলো যদি করি, করতে করতেই জীবন পার হয়ে যাবে। কপালে নাই মানে নাই, এটা এক্সেপ্ট করে এগিয়ে যাওয়া। বুক ফেটে গেলেও তাকে আর কিছু না বলা। আমার সাইকোলজির সাথে সবার মিলবে না সেটাও সত্য। কিন্তু আমার সাইকোলজি আমারই।

আমি আমার সাইকোলজি বোঝানোর চেষ্টা করলাম না। কান্না করা ব্যক্তিকে বাস্তবতা বোঝাতে হয় না।

অনেকে হয়তো মনে করতে পারে, ৭ বছর আগে হারানো প্রিয় মানুষটা কে? 

আমার ভাই।


Friday, June 27, 2025

অফিস যাওয়ার পথে


 – বাজান, একটু দাঁড়াবা?
অফিস বাসের স্টপেজটা আমার বাসা থেকে বেশ খানিকটা দূরে। তাই প্রতিদিন অন্তত দশ মিনিট আগে বের হতে হয়। আজ সাত মিনিট আগে বের হয়েছি, তিন মিনিট কম। অফিসগামীদের কাছে সকালের এক মিনিটও অনেক মূল্যবান তা সবাই জানে।
রিকশা থেকে নেমে হালকা দৌড় শুরু করলাম বাস ধরার জন্য। গিয়ে দেখি বাস তখনও আসেনি। হাঁটাহাঁটি করার মাঝখানে পিছন থেকে ডাক পড়ল।
একজন বয়স্ক মানুষ, সাদা প্যান্ট আর সিলভার রঙের শার্ট পরা। ইন করা পোশাক, মাথায় টুপি, চোখেও সিলভার কালারের চশমা। খুব সম্ভবত উনিও অফিস যাচ্ছেন।
– জি আঙ্কেল, বলেন।
– সরি বাজান, তাড়ার মধ্যে ছিলা। এমনিই ডাক দিলাম, কিছু না।
বাস তখনও আসেনি, দাঁড়িয়ে থাকতেই পারি।
– না সমস্যা নেই, বলেন।
– তুমি চাকরি করো বাবা?
– জি।
– তোমার মতোই চেহারা, হাইট, সবকিছুর মিল আমার ছেলের সাথে। কয়েক বছর ধরে ডেনমার্কে থাকে। পেছন থেকে দেখেই বুকটা কেমন ধরফড়ায় উঠল। মনে হলো আমার ছেলেই!
উনি খুব সম্ভবত পুরান ঢাকার মানুষ, কথার ভঙ্গিতে বোঝা যায়। আমি ওনার কাঁধে হাত রাখলাম।
– কথা হয় না ওর সাথে?
– হয় বাবা, দুই তিন দিন পরপর হয়। গতকালও হয়েছে।
– ওনাকে দেশে আসতে বলেন, আপনাকে নিয়ে যাক।
উনি কিছু বললেন না, শুধু হাসিমুখে মোবাইল বের করলেন ছেলের ছবি দেখানোর জন্য। দূরে দেখি আমার বাস চলে আসছে। তিনি ফোন এগিয়ে দিলেন। ছবিতে হাস্যজ্জ্বল বাবা-ছেলের ছবি। দ্রুত দেখে নিলাম। আমার মতো না—আমার চেয়েও ভালো দেখতে। ছবিটা সুন্দর। ছবিটার কারণেই আরো অনেক সুন্দর লাগলো দুজনকেই।
– আঙ্কেল, আপনার ছেলে আমার মতো না, আমার চেয়ে অনেক সুন্দর। আর এই ছবিটাও। আমি তাহলে উঠি? বাস চলে আসছে।
উনার মুখটা যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল। লম্বায় খানিকটা ছোট হওয়ার কারণে এক পাশে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। আমিও জড়িয়ে ধরলাম।
বাসে উঠে জানালার পাশে বসলাম। এই বয়সী লোকদের মাঝে আমি এখনোও আব্বাকে খুঁজে বেড়াই। আব্বা বেঁচে থাকলে হয়তো উনার মতোই হতেন। তাই এই বয়সের কেউ আমাকে জড়িয়ে ধরলে মনে হয় আমিও জড়িয়ে ধরে রাখি। 
হুমায়ূন আহমেদের সেই বিখ্যাত উক্তি মনে পড়ল—
"পৃথিবীতে অসংখ্য খারাপ মানুষ আছে, কিন্তু একজনও খারাপ বাবা নেই।"
এই কথার কতটা সত্যতা আছে তা বিচার করার ক্ষমতা আমার নেই। শুধু জানি, বাবারা সুপারহিরো হয়।
তাঁরা বটবৃক্ষের মতো। আর বটগাছ না থাকলে, তার মর্ম তখন বোঝা যায়।

আত্মজীবন - ০৩

এক ধরণের অস্থিরতা কাজ করতেছে কয়েকদিন ধরে। কি বিষয়ে সেটা নিয়ে আমার ধারণা নাই।  আমার সিক্সথ সেন্স খুব ভালো। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় যাকে বলে। আমার ধারণা...