Saturday, October 25, 2025

অসম্পূর্ণ গল্প - ০১

 পিছনে বুঝলাম কেউ দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু তাকালাম না। জিয়ারত শেষ করে তাকালাম। ২০২২ সালের শেষের দিকের ঘটনা।  কাঁচাপাকা দাড়ির মিষ্টি চেহারার একজন দাঁড়িয়ে আছে। কবরস্থানের রাস্তা গুলো বেশ চিকন। সামনে  এসে পাশে দাঁড়ালেন। 


- তোমাকে প্রায়ই দেখি। কার জন্য আসো?

কিছুক্ষন চুপ করে থাকার পর বললাম ভাইয়ের জন্য। 


 উনি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। ভাইয়ার কবর ফলকের দিকে তাকিয়ে থাকলেন কিছুক্ষন।


- বয়স দেখি বেশি ছিলো না। বলে কিছুক্ষন আস্তে আস্তে আরবি ভাষায় কিছু বললেন। দোয়াই করলেন খুব সম্ভবত

- জ্বি।  ২৫-২৬ বছরের মতো। 

- আব্বা কি করেন তোমার?

- আব্বাও মারা গেছেন ১৮ বছর হবে। 

উনি আবার আরবি ভাষায় কিছু পড়লেন।  তবে এবার আমার কাঁধে হাত রাখলেন। 

- মোনাজাত করো নাই এখনো। মোনাজাত শেষ করো। 

মোনাজাত শেষ করলাম। ভাইয়ার কবরের একদম পাশেই মসজিদ। উনি মসজিদ দেখিয়ে বললেন চলো ওখানে গিয়ে বসি। যেহেতু খুব জলদি মাগরিব হয়েই যায় এখন ভাবলাম একবারে মাগরিব পড়েই বের হই।  মসজিদে ঢুকলাম।  তখন মসজিদে খোলা ছাদ ছিলো এখন সেই ছাদ খোলা নেই অবশ্য। আমরা খোলা ছাদের নিচে বসলাম। কিছুক্ষন কথা বললাম।  মাগরিবের আজান হলো, একসাথে নামাজও পড়লাম। উনি খানিকটা সময় নিয়ে নামাজ পড়েন, আমি অপেক্ষা করলাম, না বলে বের হয়ে যেতে ইচ্ছা করলো না। মসজিদ প্রায় খালি হয়ে গেলো , মোনাজাত শেষ করে উঠলেন। আমি তখনও বাইরে দাঁড়িয়ে। আমাকে দেখে খানিকটা খুশিও হলেন। বিদায় নেওয়ার জন্য যখন বললাম উনিও বিদায় নিলেন 


- একটা কথা মনে রাখবা বাবা! মানুষ কখনো একা হয় না। উপরে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সবসময় আছেন 

- জ্বি 

- ঐযে দেখো উপরে কত সুন্দর আকাশ । কখনো খারাপ লাগলে তাকাবা। মনে করবা ওখানে তোমার প্রিয় মানুষরা আছেন।  এতো সুন্দর জায়গায় মানুষ খারাপ থাকে? সব সময় নামাজ পড়ে দোয়া করবা। তোমার দোয়াই তো সব। 

আমিও উপরে তাকালাম। হ্যা তাই তো! এতো সুন্দর জায়গায় মানুষ খারাপ থাকে কেমনে?

আল্লাহ হাফেজ বলে চলে আসলাম।  ২ বছর আগেও প্রতি শুক্রবার আমার আজিমপুর যাওয়া হতো। এখন মনে হয় অনেক "ব্যস্ত" আমি সেজন্য আজকে প্রায় ৯ মাস পর গেলাম।  মাঝখানে দুই ঈদেও যাওয়া হয় নি।  আজকে গিয়ে ওখানে লোকদের কথায় শুনলাম লোকটা মাস দুয়েক আগে মারা গেছে। 

জীবন খুব অদ্ভুত ! কিছু মানুষের স্মৃতি খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও তাদের কথা সারাজীবন রেখে দেওয়ার মতো। রিকশায় দিয়ে বাসায় আসার পথে আকাশে তাকালাম। এতো সুন্দর জায়গায় উনিও হয়তো ভালোই আছেন।

Wednesday, September 10, 2025

১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫

 দিন দিন আমি একটু ছন্নছাড়া বোধ করছি। নিজের উপর হতাশও হয়ে যাচ্ছি। কেন হচ্ছি সেটাই বোঝার চেষ্টা করছি। আজ আমার জন্মদিন ছিলো। আম্মা খুব এক্সাইটেড থাকে আমার জন্মদিনের দিন। ১২টা পর্যন্ত বসে থাকে উইশ করার জন্য। নিজে হাটতে পারে না ঠিক মতো কিন্তু ঠিকই আমাকে না জানায় শার্ট কিনে নিয়ে আসবে। এবারও এনেছে। কেক কিনতে চাওয়ার সময় আমি স্ট্রিক্টলি মানা করে দিলাম যে কেক কেনার দরকার নাই। আমার ভিতরে দুইটা আত্মা থাকে খুব সম্ভবত।  একটা হচ্ছে ছোট আত্মা, সেই ছোট আত্মা যে।ছোট বেলা থেকে কখনো কিছু পেয়ে আসে নাই। কখনো কিছু কেনার ইচ্ছা হলে টাকার অভাবের কারণে আম্মাকে বলা হয় নাই। আমার জন্মদিন খুব বড় করে করা কখনো হয় নাই। ছোট আত্মাটা যখনই এসব দেখে কখনো কাউকে এইরকম সেলিব্রেট করতে তখন একটা হাহাকার তৈরি হয়। ইশ। আমার জন্মদিন যদি এমন হতো। তখন বাধ সাধে আমার ভেতর থাকা "সব হারানো" আত্মা। যে সব হারিয়ে ক্লান্ত হয়ে এখন আর কোনো কিছুর আশা করে না। এই আত্মার কোনো ফিলিংস নাই, এই আত্মার জন্য আমাকে উইশ কেউ না করতে পারে সেজন্য আমি এগুলো হাইড করে রাখি। কেউ উইশ না করতে ভেতরে থাকা এক আত্মা মন খারাপ করলেও আরেক আত্মা বলে উঠে "তুই হ্যাপিনেস ডিসার্ভ করিস না"

যাই হোক, বাচ্চাদের মতো আজকে দিনশেষে গুনলাম কতজন উইশ করেছে। ৬ জন। নাম্বারটা খারাপ না এর মধ্যে ১-২ জনের মনে থাকার কথা ছিলো না যদিনা কয়েকদিন আগেই এই বিষয়ে কথা না হতো। যদিও এগুলা নিয়ে আপাতত মন খারাপ হচ্ছে না। হাইড করে রাখলে অবশ্যই মানুষের তো আর আমার জন্মদিন মুখস্ত করে বসে থাকবে না। ৬জনই বা কম কিসে।

এই জীবনের পরিবর্তনের জন্য একটা সময় নামাজ পড়ে অনেক কান্নাকাটি করেছি। এখন আর করি না। উপরওয়ালার উপর রাগ বলেন, অভিমান বলেন অথবা "শুনবেই তো না সুতরাং চেয়ে লাভ কি" এই চিন্তা বলেন। এইটাই এখন আমার জীবন। ওইযে দুনিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস "যা হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে সেটা মেনে নেওয়া" 

Thursday, August 21, 2025

আত্মজীবন - ০৩

এক ধরণের অস্থিরতা কাজ করতেছে কয়েকদিন ধরে। কি বিষয়ে সেটা নিয়ে আমার ধারণা নাই।  আমার সিক্সথ সেন্স খুব ভালো। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় যাকে বলে। আমার ধারণা অনেক ভালো। আমার আশেপাশের মানুষ কি মনে করে জানি না। আমার সিক্সথ সেন্স বলছে কিছু একটা আমার আশেপাশে ঘটছে যেটা আমার জন্য খুব ভালো খবর না। হয়তো আমি বুঝতে পারছি কি হচ্ছে, হয়তো পারছি না। বাট কি করার? 

আজকে আমার এক কলিগ বলছিলো, দিন শেষে বাসায় যাওয়ার পর কেউ একজন থাকা উচিত যাকে সব কিছু বলা যায়। আমি অনেকক্ষন চুপ করে থাকলাম। আমার বলার কেউ নাই। বলার কেউ নেই থেকে বড় কথা আমি বলতে চাই না। গত কয়েকবছরে আমার একটা ধারণা হয়েছে আমি কারো বিরক্তির কারণ হইতে চাই না। আর এই ভয়ের কারণে হয়তো কাউকে কোনো কিছু বলাও হয় না। কথা জমতে জমতে মানুষ নাকি বোবা হয়ে যায়? হয়ে তো গেছি মনে হয়।

ভাগ্যিস এই সাইটটা ছিলো, এখানে এসে মনের বকবক লিখি। কয়েকজন এখানে নিয়মিত আসে পড়ার জন্য। আমার খুব জানার ইচ্ছা হয় এই কয়েকজন কারা। আপনাদের কি খাইয়া দাইয়া কাজ নাই পাগলের বকবক পড়েন? তাও আবার প্রতিদিন? 

ইদানিং মিনারের "কেউ কথা রাখেনি" গানটা অনেক শোনা হয়। এত সুন্দর গান আমার এতোদিন শোনা হয় নাই। অনেক আগে একজনকে বলেছিলাম "গান আর ভিডিও গেমের কারণেই এতোদিন বেচে থাকতে পারছি" না থাকলে কি করতাম? গান, বই আর ভিডিও গেম এগুলা আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। এতো বছরেও কেউ ছাইড়া যায় নাই। গানের সাথে মিলায় আবার মনে কইরেন না কেউ ছেড়ে গেছে দেখে খুব উদাস হয়ে আছি। এরকম কোনো কাহিনি না। গানটা সুন্দর সেজন্য। 

যাই হোক সামনে আরেকটা ডুব মারার সময় চলে আসছে। 

অসম্পূর্ণ গল্প - ০১

 পিছনে বুঝলাম কেউ দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু তাকালাম না। জিয়ারত শেষ করে তাকালাম। ২০২২ সালের শেষের দিকের ঘটনা।  কাঁচাপাকা দাড়ির মিষ্টি চেহারার একজন ...